জুবিটেকের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা সবাইকে। আশা
করছি, আপনারা ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি। কিছুদিন ব্যাস্ত থাকার কারণে ব্লগে সময় দিতে
পারিনি। আশা করছি, এখন থেকে নিয়মিত উপস্থিত থাকব।
পড়ার টেবিলে মন না বসা একটি ঐতিহাসিক
সমস্যা। স্বয়ং আইন্সটাইন, রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে অনেকেরই স্কুলের প্রতি
একধরণের অনীহা কাজ করত। এই অনীহার কারণও অবশ্য বিচিত্র নয়। আমাদের চারপাশের কয়েকটি
স্কুলে খোজ নিলেই অনীহার আসল কারনটা খুব সহজে বের হয়ে আসবে! আমি নিজেও একজন
স্টুডেন্ট এবং আমার একধরণের অনীহা কাজ করে স্কুলের ব্যাপারে – না, আমি মোটেও
নিজেকে মহাজ্ঞানীগুণীদের দলে ফেলতে চাচ্ছিনা, তাদের তুলনায় আমি পায়ের যোগ্যও
না। তবুও, এই অনীহার আসল কারন কি? একটু
অনুসন্ধান করি...
||অনীহা , অনীহা এবং অনীহা||
- "ঐ পড়া শিখিস নাই কেন?
-
স্যা... স্যার
-
কি হইসে?? তাড়াতাড়ি
বল, পড়া শিখিস নাই কেন??
-
স্যার, আসলে বাসা
থেকে খাতাটা আনতে ভুলে...
-
ফাকিবাজের দল!
বেয়াদপ, আয় হাতটা আগা... হাতের আঙুলের ফাকে পেন্সির ঢুকায় চার-পাচটা না দিলে তোদের
মতো বেয়াদপের শিক্ষা হবেনা...।"
“শোন বাবা, তুমি স্টুডেন্ট খুবই মেধাবি।
তবে, মনে করো এত ভাল করে পড়ালেখা করে যদি রেজাল্ট ভাল নাহয় তাহলে লাভ আছে বল? শোন,
আমার প্রাইভেটে আস। দেখবা, ভাল রেজাল্ট করা কত সহজ! ভাল মার্কস পাবা, তুমিও খুশি,
আমিও খুশি। বুঝছ না...? হে হে হে...”
“ শোন, তোরা যারা যারা নিজেদের ভাল চাস
তাড়াতাড়ি আমার প্রাইভেটে ঢুকে যা, নাইলে পরে মারাত্মক পস্তাবি! শোন, আমার সাবজেক্ট
কিন্তু দুইটা, না পরলে এমন খাতা কাটবো সারাজীবনের পাশ করতে পারবি না।”
এমন আরও অহরহ উদাহারন পাবেন। নৈতিক
শিক্ষার মূল দায়িত্ব যাদের কাঁধে তারাই যদি প্রতিনিয়ত অনৈতিক কাজ করে চলে তাহলে
অনীহা তো জন্মাবেই, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের চারপাশে এমন অনেক উদাহারন আছে যেখানে
আমাদেরকে প্রতিনিয়ত এরকম কিছু দৃশের মুখোমুখি হতে হয়। আমরা মুখ বুঝে সহ্য করে যাই
কারন মার্কসটা তো ওদের হাতে!
আরেকটা খুব কমন বিষয় দেখেছি, ছাত্ররা যদি
খারাপ করে তাহলে অভিভাবক টিচারের কাছে জানতে চান এরকম হবার কারন কি? টিচার মুখে
তাচ্ছ্যিলের ভাব এনে বলেন, আমি কি করব বলেন? আপনার সন্তানের মাথায় কিছু থাকলে তবে
না ভাল রেজাল্ট করবে। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আসলে সে কিছু পারেনা। একে
পড়ানোই আমার ভুল হয়েছে।
একই অবস্থা স্কুলে ভর্তি হতে গেলেও,
পিচ্চি পিচ্চি নার্সারি- কেজি ওয়ানের বাচ্চাকে ভর্তি করতে হলে আগে বাবা-মাকে
ইন্টার্ভিউ দিয়ে প্রমান করতে হয় তারা কতটুকু লেখাপড়া জানেন! তাহলেই তাদের সন্তানকে
ভর্তি নেয়া হবে। আবার ডোনেশনের নামে ঘুষ নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার ঘটনাও নেহায়েতই
কম না।
আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন আছে, আগে যেই
টিচার বলে গেলেন যে আপনার সন্তান কিছুই পারেনা, একে পড়ানোই ভুল হয়েছে। - তাহলে কি
সেই শিক্ষার্থী সবকিছু শিখে এসে টিচারের কাছে পড়বে? যদি সবকিছু শিখে আসতেই হয়
তাহলে টিচারের কাছে পড়ার প্রয়োজন কোথায়? একই কথা স্কুলের নেয়া
ইন্টারভিউয়ের জন্য,
একটা বাচ্চা কি স্কুলে ভর্তি হবার আগেই সবকিছু শিখে পড়ে এসে ভর্তি হবে?
তাহলে
স্কুলে ঢোকার প্রয়োজন কি? স্কুলের দায়িত্ব হচ্ছে তাকে শেখানো, তার মধ্যে জ্ঞান
বিতরণ করা উল্টো তারাই যদি আগেভাগে যাচাই-বাছাই করে যাদের মধ্যে আগেই জ্ঞান ঢুকানো
রয়েছে তাদেরকে ভর্তি নেয় তাহলে স্কুলের দায়িত্বটা আসলে কি?
এতকিছুর পরেও শেষ হলে একটা কথা ছিল,
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেটা হয়নি। আপনি একটা অংক যদি টিচারের পছন্দসই নিয়মে না
করেন তাহলে ঘ্যাস ঘ্যাস করে খাতা কাটা যাবে নির্ঘাত! পাশাপাশি মুখস্তবিদ্যা তো
আছে, আমার পরিচিত এমনও টিচার আছেন যারা প্রতিনিয়ত ছাত্রদের বলেঃ সৃজনশীল প্রশ্ন
মুখস্ত করে আসবা...(!)
আজকে শেষ তবে একটা কথা বলে যাই। যেই টিচার
বলেছিলেন যে, “আপনার সন্তানের মাথায় কিছুই নাই, একে পড়ানোই ভুল হয়েছে সেই একই
টিচার ভাল রেজাল্ট করার পরে বলেছেন, এই স্টুডেন্টকে আমিই তৈরি করেছি, এই ছেলেটা
আসলেই মেধাবী!
আহা... দুমুখো সাপের কি বাস্তব উদাহারন!
এই কথাটা আমি জোরের সাথে বলতে পারছি কারন ঘটনা আমার সাথেই ঘটেছিলো আর যিনি এটা
বলেছেন তিনি আসলে আমারই টিচার!
যাই হোক, আজকে এখানে লেখা শেষ করছি। তবে,
আমি খুব শীঘ্রই ফিরে আসবো। যাদের পড়ায় বসেনা মন, তাদের কিভাবে পড়ায় মন বসাতে হবে
সেটার উপায় সাথে করে নিয়েই হাজির হব।
এই লেখায় মোটেও কোন শিক্ষক জাতিকে অপমান
করতে চাইনি। শুধুমাত্র বর্তমান বাস্তবতাটা তুলে ধরেছি। কেউ আমার কথায় কষ্ট পেলে
দুঃখিত। শিক্ষক একটি জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত ব্যাক্তি – আমি এখনো
এটাই বিশ্বাস করি।
আমার নিজস্ব ব্লগ আছেঃ ZubyTech – The Ultimate Technology
আমার সমস্ত লেখা সর্বপ্রথম আমার ব্লগেই
পাওয়া যায়। তাই, আপনি চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজে একটা লাইক দিয়ে রাখতে পারেন।
পাশাপাশি এই ব্লগে আরও নানারকম কাজের তথ্য পাওয়া যায়। তাই, সবাইকে নিয়মিত ভিজিট
করার অনুরোধ রইলো।
আপনি চাইলে আমার ব্লগে লেখতে পারেন, লেখার
জন্য দয়া করে এখানে যোগাযোগ করুন। একটা ম্যাসেজ দিন আমাদেরকে। আমরা আপনার সাথে কথা
বলবো।
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। সবাইকে
ধন্যবাদ।
লেখকঃ প্রীতম চক্রবর্তী
