মূলত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করাটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মজা করার জন্য করা হয়ে থাকে বা করা হয় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে। আমাদের মত সাধারণ মানুষের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে খুব বড় কিছু করতে না পারলেও গুরুত্ব পূর্ন কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মোটামুটি ভালো গন্ডগোলই সৃষ্টি করা সম্ভব। তবে, আপনি সাধারণ মানুষ হলেও আপনার জেনে নেয়া উচিৎ কিছু পদ্ধতি যার মধ্যমে আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিকে রাখতে পারবেন সুরক্ষিত। তাহলে চলুন, সেই পদ্ধতি গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করে ফেলি।
১। Keep me logged in: আপনি ফেসবুকে লগইন করার সময় লগইন বক্সের ‘Email or Phone’ এর নিচে একটি ‘Keep me logged in’ অপশন দেখতে পারবেন যেখানে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে সুবিধাটি ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার সময় এই অপশনটিতে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে থাকেন তবে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হবার সম্ভবনা বেড়ে যায়। আপনি যদি এই সুবিধাটি ব্যবহার করতেই চান তবে শুধু মাত্র আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই ব্যবহার করুন যদি সেই কম্পিউটারটি অন্য কেউ ব্যবহার না করে।
২। কখনোই পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন নাঃ এটি মূলত আমার কাছে একটি স্থূল পদ্ধতি কেননা বর্তমানে যে কোন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরাই অনেক বেশি সচেতন এবং তাদের পাসওয়ার্ড অন্য কারও সাথে শেয়ার করে থাকেনা। তবে আপনি যদি ব্যতিক্রমধর্মী হয়ে থাকেন তবে আজ থেকে পাসওয়ার্ড শেয়ার করা বন্ধ করুন। আপনার পাসওয়ার্ড অন্য কেউ জানলে সে হ্যাক না করলেও মাঝে মাঝে কৌতুহলের বসে আপনার অ্যাকাউন্টটে ঢুঁ মেরে যেতে পারে যার ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের বেজে যেতে পারে বারোটা!!
৩। পাবলিক প্লেসে ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন না করাই ভালোঃ ধরুন আপনি আপনার একটি ফ্রেন্ডের বাসায় আছেন অথবা একটি সাইবার ক্যাফেতে বসে আছেন। এখন আপনার বন্ধু যদি খুব বেশি বিশ্বাসযোগ্য না হয়ে থাকে তবে তার কম্পিউটার থেকে ফেসবুকে লগইন না করাই শ্রেয়। আর এই ‘বিশ্বাসের’ কথাটি সাইবার ক্যাফের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবুও যদি আপনার পাবলিক প্লেসে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার একান্তই প্রয়োজন হয়ে থাকে তবে নিচের টিপস গুলো মনে রাখবেন।
আপনি যখন আপনার বন্ধুর বা সাইবার ক্যাফের বা অন্য যে কারও কম্পিউটারের মাধ্যমে ফেসবুকে লগইন করবেন তখন ‘Keep me logged in’ অপশনটিতে টিক চিহ্ন দেয়া থেকে বিরত রাখবেন। এর কারন প্রথম পদ্ধতিতেই বলা হয়েছে। আর এই পদ্ধতিটি শুধু মাত্র ফেসবুকের জন্যেই নয়, বরং ইন্টারনেট ভিত্তিক যে কোনো অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আপনি যে কম্পিউটারটি দিয়ে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করছেন সেই কম্পিউটারটিতে ‘Facebook Password Decryptor Software’ ইন্সটল করা থাকতেই পারে যা কিনা আপনার ফেসবুকে লগইন করার সকল তথ্য সংগ্রহ করে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই, লগইন করার সময় একটু চেক করে দেখুন যে এরকম কোন সফটওয়ার বা কী-লগার ইন্সটল করা আছে কি না।
সবসময় ব্যবহার করুন শক্তিশালী এবং লম্বা একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে যেন কেউ সহজে পাসওয়ার্ডটি অনুমান করে নিতে না পারে।
তবে একটি লম্বা বা বড় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কিন্তু আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা করতে যথেষ্ট নয়। কেননা, হ্যাকররা হ্যাক করার সময় ‘ডিকশনারী মেথড’ নামের একটি মেথড ব্যবহার করে থাকে যা ইংরেজী কীওয়ার্ডের প্রতিটি অক্ষর বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে সক্ষম। তাই, শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে অবশ্যই ছোট হাতের অক্ষর, বড় হাতের অক্ষর, গাণিতিক সংখ্যা এবং স্পেশাল ক্যারেকটার সমূহ (!@#$%^&*) ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
আপনি যদি আপনার পাসওয়ার্ড নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকেন তবে www.passwordmeter.com এর মত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার পাসওয়ার্ডের কাঠিন্যতা পরীক্ষা করতে পারেন।
চেষ্টা করুন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটির পাসওয়ার্ড দু-তিন মাস অন্তর অন্তর পরিবর্তন করতে। এ পদ্ধতিতে কেউ যদি আপনার পাসওয়ার্ড জেনেই যায় তবে দু-তিন মাস পর আবার তাকে নতুন করে জানার প্রচেষ্টায় মাঠে নামতে হবে।
ইন্টারনেটে সব স্থানে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। আপনি যদি গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের জন্য একই পাসওয়ার্ড নির্ধারন করে থাকেন তবে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া মানেই হচ্ছে অনান্য গুলো হ্যাক হওয়া শুধু সময়ের ব্যপার। তাই, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন রকম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
৪। থার্ড পার্টি অ্যাপঃ নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে ফেসবুকে বিভিন্ন রকমের অ্যাপের ছড়াছড়ি রয়েছে। কোন অ্যাপ আপনার দশটি ভালো বন্ধুর নাম প্রকাশে সাহায্য করে আবার কোন অ্যাপ আপনি কীভাবে মারা যাবেন সেটাই দেখায়!! যাই হোক, সবই যে এরকম অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ তা বলছিনা আমি, কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপও মাঝে মাঝে পাওয়া যায় তবে তার সংখ্যা খুবই কম বলতে গেলে। যাই হোক, যে কোন প্রকার অ্যাপ ব্যবহারের দেখবেন আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত প্রয়োগ করতে হচ্ছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে আপনার অবর্তমানে আপনার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যে কোন কিছু পোস্ট করা, আপনার মেসেজ বক্স এবং ফ্রেন্ডলিস্টে এক্সেস করা ইত্যাদি যা অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ। তাই, এই সব থার্ড পার্টি অ্যাপলিকেশনের ক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই কোনটা ভালো,কোনটা মন্দ, কোনটার রেপুটেশন ফেসবুকে বেশি ইত্যাদি দিক বিবেচনা করা উচিৎ এবং একটি নিরাপদ অ্যাকাউন্টের জন্য শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোই ব্যবহার করা উচিৎ।
৫। প্রাইভেসি সেটিংসঃ এই ধাপটিই মূলত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তায় সবচাইতে বেশি ভূমিকা রেখে থাকে। চলুন, প্রয়োজনীয় কিছু নিরাপত্তা লেয়ার সম্পর্কে জেনে নেই।
আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করার পর Settings এ ক্লিক করে Security পেইজে প্রবেশ করুন। পেইজটির উপরে দেখবেন লেখা রয়েছে, ‘Secure Browsing’ এবং এর পাশে দেখবেন একটি অপশন রয়েছে ‘Browse Facebook on a secure connection (https) when possible.’, টিক চিহ্ন দিন এবং পরিবর্তন সংরক্ষন করুন। এতে করে আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
আবারোও Settings > Security -এ যান। Security Browsing এর নিচের দিকে একটি লেখা ‘Login Notifications’ দেখতে পাবেন। এটি এডিট করুন এবং সম্ভব হলে ‘Email’ এবং ‘Text Message/Push notification’ দুটিতেই টিক চিহ্ন দিয়ে পরিবর্তন সংরক্ষন করুন। আপনি যদি এই অপশনটি চালু রাখেন তবে আপনি যদি অন্য কারও কম্পিউটার দিয়ে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে থাকেন তবে আপনার ই-মেইলে বা ফোনে একটি বার্তা পাবেন। যদি আপনি নিজেই ঢুকে থাকেন তবে তো আপনি জানবেনই, আর যদি আপনি অন্য কারও কম্পিউটার থাকে না ঢুকলেও এরকম বার্তা পেয়ে থাকেন তবে আপনি বুঝতেই পারবেন যে কেউ একজন আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করেছিল। এই পদ্ধতি আপনার অনুসন্ধান সহজ করার জন্য যে ব্রাউজার থেকে লগইন করা হয়েছিল আপনার অ্যাকাউন্টে সেই ব্রাউজারের নাম, উক্ত অপারেটিং সিস্টেম এবং প্রবেশের সময়ও আপনাকে জানাবে।
Settings > Security পেইজের তৃতীয় অপশনটিও গুরুত্বপূর্ন। এই তৃতীয় নম্বর নিরাপত্তা লেয়ারটি বা ‘Login approvals’ এর মাধ্যমে আপনি একটি নিরাপত্তা কোড পাবেন আপনার মোবাইলে। প্রতিবার আপনি যখন নতুন ব্রাউজার থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে যাবেন তখন ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরেও ঐ কোডটি আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। তাই, এই নিরাপত্তা লেয়ারটি ব্যবহারের ফলে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জানলেও সেই কোডটি না জানার জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেনা। এছাড়াও, অচেনা ব্রাউজার থেকে লগইন করার সময় আপনাকে ফেসবুক থেকে একটি করে বার্তা পাঠানো হবে আপনার মোবাইল নম্বরে।
Security পেইজে আরও একটি চমৎকার সিকিউরিটি লেয়ার রয়েছে যার নাম ‘Trusted Contacts’। এই সুবিধাটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা তিনজন ফ্রেন্ডকে ট্রাস্টেড কন্টাক্ট লিস্টে রাখতে পারবেন এবং আপনার অ্যাকাউন্ট কোন ভাবে হ্যাক হয়ে গেলে আপনি নির্ধারিত সেই তিন জন বন্ধুর সাহায্যে আপনার অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করতে পারবেন।
৬। ফেসবুকের ডাটার কপি ডাউনলোডঃ আপনি যদি বেশ কয়েক বছর ধরে ফেসবুক ব্যবহার করতে থাকেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ন ডাটা যদি ফেসবুকে জমা হয়ে থাকে তবে আপনি আপনার ফেসবুক ডাটার একটি কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এতে করে হ্যাকার যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপনার অ্যাকাউন্টটি মুছেও দেয় তবুও আপনার ডাটা গুলো থাকবে সুরক্ষিত। আপনি Settings থেকে General পেইজের একদম নিচে এই ‘Download a copy of your Facebook data’ অপশনটি পাবেন। মনে রাখবেন, অন্তত তিন মাস পর পর একবার করে এই ডাটা ডাউনলোড করে রাখা উচিৎ।
উপরের পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করে সহজেই আপনি আপনার ফেসবুক প্রোফাইলটি হ্যাকারদের কবল থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন। তাই এখনো যদি উপরোক্ত সিকিউরিটি লেয়ার গুলো আপনি অ্যাকটিভ করে না থাকেন তবে চটজলদি করে ফেলুন। আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।
১। Keep me logged in: আপনি ফেসবুকে লগইন করার সময় লগইন বক্সের ‘Email or Phone’ এর নিচে একটি ‘Keep me logged in’ অপশন দেখতে পারবেন যেখানে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে সুবিধাটি ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার সময় এই অপশনটিতে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে থাকেন তবে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হবার সম্ভবনা বেড়ে যায়। আপনি যদি এই সুবিধাটি ব্যবহার করতেই চান তবে শুধু মাত্র আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই ব্যবহার করুন যদি সেই কম্পিউটারটি অন্য কেউ ব্যবহার না করে।
২। কখনোই পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন নাঃ এটি মূলত আমার কাছে একটি স্থূল পদ্ধতি কেননা বর্তমানে যে কোন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরাই অনেক বেশি সচেতন এবং তাদের পাসওয়ার্ড অন্য কারও সাথে শেয়ার করে থাকেনা। তবে আপনি যদি ব্যতিক্রমধর্মী হয়ে থাকেন তবে আজ থেকে পাসওয়ার্ড শেয়ার করা বন্ধ করুন। আপনার পাসওয়ার্ড অন্য কেউ জানলে সে হ্যাক না করলেও মাঝে মাঝে কৌতুহলের বসে আপনার অ্যাকাউন্টটে ঢুঁ মেরে যেতে পারে যার ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের বেজে যেতে পারে বারোটা!!
৩। পাবলিক প্লেসে ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন না করাই ভালোঃ ধরুন আপনি আপনার একটি ফ্রেন্ডের বাসায় আছেন অথবা একটি সাইবার ক্যাফেতে বসে আছেন। এখন আপনার বন্ধু যদি খুব বেশি বিশ্বাসযোগ্য না হয়ে থাকে তবে তার কম্পিউটার থেকে ফেসবুকে লগইন না করাই শ্রেয়। আর এই ‘বিশ্বাসের’ কথাটি সাইবার ক্যাফের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবুও যদি আপনার পাবলিক প্লেসে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার একান্তই প্রয়োজন হয়ে থাকে তবে নিচের টিপস গুলো মনে রাখবেন।
আপনি যখন আপনার বন্ধুর বা সাইবার ক্যাফের বা অন্য যে কারও কম্পিউটারের মাধ্যমে ফেসবুকে লগইন করবেন তখন ‘Keep me logged in’ অপশনটিতে টিক চিহ্ন দেয়া থেকে বিরত রাখবেন। এর কারন প্রথম পদ্ধতিতেই বলা হয়েছে। আর এই পদ্ধতিটি শুধু মাত্র ফেসবুকের জন্যেই নয়, বরং ইন্টারনেট ভিত্তিক যে কোনো অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আপনি যে কম্পিউটারটি দিয়ে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করছেন সেই কম্পিউটারটিতে ‘Facebook Password Decryptor Software’ ইন্সটল করা থাকতেই পারে যা কিনা আপনার ফেসবুকে লগইন করার সকল তথ্য সংগ্রহ করে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই, লগইন করার সময় একটু চেক করে দেখুন যে এরকম কোন সফটওয়ার বা কী-লগার ইন্সটল করা আছে কি না।
সবসময় ব্যবহার করুন শক্তিশালী এবং লম্বা একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে যেন কেউ সহজে পাসওয়ার্ডটি অনুমান করে নিতে না পারে।
তবে একটি লম্বা বা বড় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কিন্তু আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা করতে যথেষ্ট নয়। কেননা, হ্যাকররা হ্যাক করার সময় ‘ডিকশনারী মেথড’ নামের একটি মেথড ব্যবহার করে থাকে যা ইংরেজী কীওয়ার্ডের প্রতিটি অক্ষর বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে সক্ষম। তাই, শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে অবশ্যই ছোট হাতের অক্ষর, বড় হাতের অক্ষর, গাণিতিক সংখ্যা এবং স্পেশাল ক্যারেকটার সমূহ (!@#$%^&*) ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
আপনি যদি আপনার পাসওয়ার্ড নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকেন তবে www.passwordmeter.com এর মত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার পাসওয়ার্ডের কাঠিন্যতা পরীক্ষা করতে পারেন।
চেষ্টা করুন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটির পাসওয়ার্ড দু-তিন মাস অন্তর অন্তর পরিবর্তন করতে। এ পদ্ধতিতে কেউ যদি আপনার পাসওয়ার্ড জেনেই যায় তবে দু-তিন মাস পর আবার তাকে নতুন করে জানার প্রচেষ্টায় মাঠে নামতে হবে।
ইন্টারনেটে সব স্থানে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। আপনি যদি গুগল, টুইটার এবং ফেসবুকের জন্য একই পাসওয়ার্ড নির্ধারন করে থাকেন তবে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া মানেই হচ্ছে অনান্য গুলো হ্যাক হওয়া শুধু সময়ের ব্যপার। তাই, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন রকম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
৪। থার্ড পার্টি অ্যাপঃ নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে ফেসবুকে বিভিন্ন রকমের অ্যাপের ছড়াছড়ি রয়েছে। কোন অ্যাপ আপনার দশটি ভালো বন্ধুর নাম প্রকাশে সাহায্য করে আবার কোন অ্যাপ আপনি কীভাবে মারা যাবেন সেটাই দেখায়!! যাই হোক, সবই যে এরকম অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ তা বলছিনা আমি, কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপও মাঝে মাঝে পাওয়া যায় তবে তার সংখ্যা খুবই কম বলতে গেলে। যাই হোক, যে কোন প্রকার অ্যাপ ব্যবহারের দেখবেন আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত প্রয়োগ করতে হচ্ছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে আপনার অবর্তমানে আপনার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যে কোন কিছু পোস্ট করা, আপনার মেসেজ বক্স এবং ফ্রেন্ডলিস্টে এক্সেস করা ইত্যাদি যা অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ। তাই, এই সব থার্ড পার্টি অ্যাপলিকেশনের ক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই কোনটা ভালো,কোনটা মন্দ, কোনটার রেপুটেশন ফেসবুকে বেশি ইত্যাদি দিক বিবেচনা করা উচিৎ এবং একটি নিরাপদ অ্যাকাউন্টের জন্য শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোই ব্যবহার করা উচিৎ।
৫। প্রাইভেসি সেটিংসঃ এই ধাপটিই মূলত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তায় সবচাইতে বেশি ভূমিকা রেখে থাকে। চলুন, প্রয়োজনীয় কিছু নিরাপত্তা লেয়ার সম্পর্কে জেনে নেই।
আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করার পর Settings এ ক্লিক করে Security পেইজে প্রবেশ করুন। পেইজটির উপরে দেখবেন লেখা রয়েছে, ‘Secure Browsing’ এবং এর পাশে দেখবেন একটি অপশন রয়েছে ‘Browse Facebook on a secure connection (https) when possible.’, টিক চিহ্ন দিন এবং পরিবর্তন সংরক্ষন করুন। এতে করে আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
আবারোও Settings > Security -এ যান। Security Browsing এর নিচের দিকে একটি লেখা ‘Login Notifications’ দেখতে পাবেন। এটি এডিট করুন এবং সম্ভব হলে ‘Email’ এবং ‘Text Message/Push notification’ দুটিতেই টিক চিহ্ন দিয়ে পরিবর্তন সংরক্ষন করুন। আপনি যদি এই অপশনটি চালু রাখেন তবে আপনি যদি অন্য কারও কম্পিউটার দিয়ে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে থাকেন তবে আপনার ই-মেইলে বা ফোনে একটি বার্তা পাবেন। যদি আপনি নিজেই ঢুকে থাকেন তবে তো আপনি জানবেনই, আর যদি আপনি অন্য কারও কম্পিউটার থাকে না ঢুকলেও এরকম বার্তা পেয়ে থাকেন তবে আপনি বুঝতেই পারবেন যে কেউ একজন আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করেছিল। এই পদ্ধতি আপনার অনুসন্ধান সহজ করার জন্য যে ব্রাউজার থেকে লগইন করা হয়েছিল আপনার অ্যাকাউন্টে সেই ব্রাউজারের নাম, উক্ত অপারেটিং সিস্টেম এবং প্রবেশের সময়ও আপনাকে জানাবে।
Settings > Security পেইজের তৃতীয় অপশনটিও গুরুত্বপূর্ন। এই তৃতীয় নম্বর নিরাপত্তা লেয়ারটি বা ‘Login approvals’ এর মাধ্যমে আপনি একটি নিরাপত্তা কোড পাবেন আপনার মোবাইলে। প্রতিবার আপনি যখন নতুন ব্রাউজার থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে যাবেন তখন ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরেও ঐ কোডটি আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। তাই, এই নিরাপত্তা লেয়ারটি ব্যবহারের ফলে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জানলেও সেই কোডটি না জানার জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেনা। এছাড়াও, অচেনা ব্রাউজার থেকে লগইন করার সময় আপনাকে ফেসবুক থেকে একটি করে বার্তা পাঠানো হবে আপনার মোবাইল নম্বরে।
Security পেইজে আরও একটি চমৎকার সিকিউরিটি লেয়ার রয়েছে যার নাম ‘Trusted Contacts’। এই সুবিধাটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা তিনজন ফ্রেন্ডকে ট্রাস্টেড কন্টাক্ট লিস্টে রাখতে পারবেন এবং আপনার অ্যাকাউন্ট কোন ভাবে হ্যাক হয়ে গেলে আপনি নির্ধারিত সেই তিন জন বন্ধুর সাহায্যে আপনার অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করতে পারবেন।
৬। ফেসবুকের ডাটার কপি ডাউনলোডঃ আপনি যদি বেশ কয়েক বছর ধরে ফেসবুক ব্যবহার করতে থাকেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ন ডাটা যদি ফেসবুকে জমা হয়ে থাকে তবে আপনি আপনার ফেসবুক ডাটার একটি কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এতে করে হ্যাকার যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপনার অ্যাকাউন্টটি মুছেও দেয় তবুও আপনার ডাটা গুলো থাকবে সুরক্ষিত। আপনি Settings থেকে General পেইজের একদম নিচে এই ‘Download a copy of your Facebook data’ অপশনটি পাবেন। মনে রাখবেন, অন্তত তিন মাস পর পর একবার করে এই ডাটা ডাউনলোড করে রাখা উচিৎ।
উপরের পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করে সহজেই আপনি আপনার ফেসবুক প্রোফাইলটি হ্যাকারদের কবল থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন। তাই এখনো যদি উপরোক্ত সিকিউরিটি লেয়ার গুলো আপনি অ্যাকটিভ করে না থাকেন তবে চটজলদি করে ফেলুন। আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।
